কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত একটি সৈকত। ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) দীর্ঘ এই সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত। তবে অস্ট্রেলিয়ার ১৫১ কিলোমিটার (৯৪ মাইল) দীর্ঘ নব্বই মাইল সমুদ্র সৈকত বর্তমানে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত, যদিও অস্ট্রেলিয়ার সৈকতটির কিছু অংশ মনুষ্যসৃষ্ট। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এই সৈকতে আসেন।
কক্সবাজার সৈকত গড়ে ভরা জোয়ারে ২০০ মিটার (৬৬০ ফুট) আর নিম্ন জোয়ারে ৪০০ মিটার (১,৩০০ ফুট) প্রশস্থ। ভাটার সময়ে চোরাবালি জেগে উঠে বিধায় বিপদজনক হয়ে উঠে
নবম শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে ১৬১৬ সালে মুঘল অধিগ্রহণের আগে পর্যন্ত কক্সবাজার-সহ চট্টগ্রামের একটি বড় অংশ আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। মুঘল সম্রাট শাহ সুজা পাহাড়ী রাস্তা ধরে আরাকান যাওয়ার পথে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন এবং এখানেই ক্যাম্প স্থাপনের আদেশ দেন। তার যাত্রাবহরের প্রায় একহাজার পালঙ্কী কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা নামের স্থানে অবস্থান নেয়। ডুলহাজারা অর্থ হাজার পালঙ্কী। মুঘলদের পরে ত্রিপুরা এবং আরকান তার পর পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশরা এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
কক্সবাজার নামটি এসেছে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসারের নাম থেকে। কক্সবাজারের আগের নাম ছিল পালংকি। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধ্যাদেশ, ১৭৭৩ জারি হওয়ার পর ওয়ারেন্ট হোস্টিং বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তখন হিরাম কক্স পালংকির মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। ক্যাপ্টেন কক্স আরাকান শরণার্থী এবং স্থানীয় রাখাইনদের মধ্যে বিদ্যমান হাজার বছরের পুরোনো সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করেন এবং শরণার্থীদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেন কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ করার আগেই মারা (১৭৯৯) যান। তার পুনর্বাসন অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এর নাম দেয়া হয় কক্স সাহেবের বাজার। কক্সবাজার থানা প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে।
সৈকতের অংশগুলো
কলাতলী পয়েন্ট
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একটি মূল অংশ হচ্ছে কলাতলী পয়েন্ট যা কক্সবাজার শহরের ডলফিনের মোড়ের দিকে অবস্থিত। অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কলাতলীর আশেপাশে অবস্থিত। কক্সবাজারগামী সকল বাস শহরের কলাতলী পয়েন্টের কাছে থামে। আগে বাসগুলো কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতে সরাসরি থেমে যেতো। সরকার কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এখন বাস কলাতলীর কাছে ডলফিনের মোড়ে থামে।
সুগন্ধা পয়েন্ট
কলাতলী পয়েন্ট থেকে দূরে উত্তর দিকে সুগন্ধা পয়েন্ট অবস্থিত। এখানে অবস্থিত জনপ্রিয় বার্মিজ মার্কেট। অতীতে এখানে অনেক সামুদ্রিক-মাছের তৈরি খাবারের রেস্টুরেন্ট ছিলো কিন্তু সরকার পরে সেগুলো উচ্ছেদ করে।
লাবনী পয়েন্ট
কক্সবাজার সৈকতের সবচাইতে পরিচিত অংশ লাবনী পয়েন্ট। পর্যটকরা মূলত এখানে বেশি সমাবেত হয়। লাবনী পয়েন্ট সার্ফিং, জগিং, সাইকেলিং ও সাঁতার কাটার জন্য ভালো।
দরিয়ানগর সৈকত
হিমছড়ি জাতীয় পার্কের কাছে দরিয়ানগর সৈকত অবস্থিত। দরিয়ানগর সৈকতের মধ্য দিয়ে জলপথ প্রবাহিত হয়ে থাকে।
ইনানী সৈকত
ইনানী সৈকত ১৮-কিলোমিটার দীর্ঘ (১১-মাইল) যা কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত। এটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত। এই সৈকতে রয়েছে সবুজ ও কালো বর্ণের অনেক প্রবাল পাথর।
টেকনাফ সৈকত
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় টেকনাফ সৈকত অবস্থিত। এই অংশটা কক্সবাজারের অন্যান্য অংশ থেকে ভিন্নতর। গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ টেকনাফ ম্যানগ্রোভের তীরে অবস্থিত টেকনাফ সৈকত। এই সৈকত বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। উল্লেখযোগ্য ভাগগুলো হলো -
- শ্যামলাপুর সৈকত (বাহারছড়া সৈকত)
- শিলাখালী সৈকত
- হাজামপাড়া সৈকত
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
জনপ্রিয় পোস্ট
-
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
- পোস্টদাতা মুনমুন
- February 22, 2021
-
ইলোরা গুহাসমূহ
- পোস্টদাতা মুনমুন
- March 15, 2021
-
জাতীয় সংসদ ভবন
- পোস্টদাতা মুনমুন
- March 10, 2021
-
ইয়েলোস্টোন জাতীয় উদ্যান
- পোস্টদাতা মুনমুন
- March 15, 2021
নিউজলেটার
নতুন আপডেট পেতে আমাদের মেইলিং তালিকায় সাবস্ক্রাইব করুন!