ডার্ক মোড
Image
ইনানী বিচ কক্সবাজার

ইনানী বিচ কক্সবাজার

দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হল ইনানী সৈকত। ইনানী সমুদ্র সৈকত  কক্সবাজার থেকে ২৫ কিঃমিঃ এবং হিমছড়ি থেকে ১৪ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত। মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে কক্সবাজার থেকে ইনানী সমুদ্র সৈকত যেতে হয়।

এছাড়া টেকনাফ গামী মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে ইনানী বীচে যাবার সময় হিমছড়ির পাহাড়, সমুদ্র তীরের সাম্পান, নারিকেল ও ঝাউবন গাছের সারি আর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আপনার ভ্রমণের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে মন প্রফুল্ল হয়ে উঠবে। আপনি যদি টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ইনানী সৈকতে যান তবে যাবার পথে আপনার দু চোখ জুড়িয়ে দেবে উঁচু উঁচু পাহাড় আর উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ। শুধু চোখই জুড়বে না, বরং পুরো সময়টা আপনি থাকবেন এক ধরণের সিদ্ধান্তহীনতায়! এক পাশে পাহাড় আরেক পাশে সাগর। কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবেন? মন যে দু দিকই দেখতে চাইবে।

 

সবুজ পাহাড়, বিশাল বালুকাচর, ও নুড়ি পাথরের সঙ্গে নীল-সাদা সাগরের ঢেউয়ের মিশ্রণে এক বিস্ময়কর নাম ইনানী। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এই বিচ খুবই পরিচিত। নয়নাভিরাম এ বিচের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়, অভিভূত করে। এটাকে বলা হয় পর্যটন স্পট বাংলাদেশের দার্জিলিং। নান্দনিক এই ইনানী বিচ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিকট দিন দিন আকর্ষনীয়, দর্শনীয় হয়ে উঠছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী সি-বিচ যেন পর্যটকদের ভ্রমণে অন্য রকম আনন্দ-উৎফুল্লতা এনে দেয়। ইনানী বিচে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রকৃতি নিজ খেয়ালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে অসংখ্য কোরাল। ওসব কোরালের রহস্যময় অবস্থান অবলোকন করতে করতে এই বিচে অনেকটা সময় কাটানো যায়। ইনানী বিচের অদূরে রয়েছে আরও মন ভুলানো প্রশান্তির পাটুয়ারটেক সি বিচ। বঙ্গোপসাগরের বেশ গভীরে বিশাল আকারের কোরালের অবস্থান। এসব কোরালের সঙ্গে সাগরের ঢেউয়ের মিতালী, স্বচ্ছ
জলরাশির নয়নাভিরাম দৃশ্য

 

ইনানী সৈকতের প্রধান আকর্ষণ প্রবাল আর পাথর। অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতই ইনানী সমুদ্র সৈকতে প্রবাল পাথরের ছড়াছড়ি।  জোয়ারের সময় এলে প্রবাল পাথরের দেখা পাওয়া যাবে না। ভাটার সময়েই কেবল মাত্র বিশাল এলাকা জুড়ে ভেসে উঠে এই পাথর। প্রবাল পাথরে লেগে থাকে ধারালো শামুক ঝিনুক। প্রায় প্রতিটা পাথরই নানা আকার আর ধরণের। কত বছরের পুরনো সে পাথর! আর তাতে মিশে আছে কত স্মৃতি!

এখানে কক্সবাজারের মত সাগর এত উত্তাল থাকে না আর এই শান্ত সাগরই পর্যটকদের আরো বেশী বিমোহিত করে। পরিষ্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্রস্নানের জন্য উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত। সাধারণত বিকেল বেলায় ইনানী সৈকত ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। বিকেল বেলায় পর্যটক তুলনামূলক কম থাকে আর সাথে অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা পরবর্তীতে আপনার আফসুসের কারণ হতে পারে।

সাগরে নামতে না চাইলে বা সে রকম পরিকল্পনা না থাকলে ইনানী সৈকতে যেতে পারেন বিকেল বেলায়। পড়ন্ত বিকেলের শান্ত সাগর আপনার সামনে তুলে ধরবে তার বিশালতা। সূর্যাস্তটাও উপভোগ করে ফিরতে পারেন। বিকেলে সাধারণত অন্য সময়ের তুলনায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় কিছুটা কম থাকে। সাগর যেখানে নিজের ভাষায় কথা বলছে সেখানে মানুষের কোলাহল কিছুটা কম থাকাই কাম্য!

পৃথিবীর দীর্ঘতম বেলাভূমি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ বিচের উখিয়ার এই ইনানি বীচ দেখতে সাধারণ দর্শনার্থী- ভিআইপি টুরিস্টদের ভিড় সব সময়। এখানকার স্বচ্ছ নীলাভ পানি, সেন্টমার্টিনের মতো অসংখ্য কোরালের ছড়াছড়ি দেখে পর্যটকরা বেশি আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এখানে পরিশ্রান্ত প্রকৃতি দর্শনে পর্যটকরা বেশী আনন্দ পান। এখানে ভাটার সময় বিচের পানি যেমন নীলাভ দেখায়, তেমনি ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোরাল পাথরের উপর ছোটাছুটি করে স্মৃতির এলবাম ভরতে ফটোসেশন করা, সূর্যাস্ত দর্শন মন ভরিয়ে দেয়। ইনানীর জোয়ারের পানি, পাশের সবুজ শ্যামল গ্রামের চিরাচরিত চিত্র, পাহাড়ের সুবজ গাছের সারি, বিচের লাল কাঁকড়াদের হুড়োহুড়ি, কিংবা তপ্ত বালির বিছানা দূর্ণিবার আকর্ষনে আপনাকে কাছে টেনে নেবেই।

ইনানী বিচ কক্সবাজার
ইনানী বিচ কক্সবাজার

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নতুন আপডেট পেতে আমাদের মেইলিং তালিকায় সাবস্ক্রাইব করুন!